ডিএসই শেয়ারবাজার ২৬ এপ্রিল ২০২৬
দেশের শেয়ারবাজারে টানা দ্বিতীয় কার্যদিবসের মতো শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তিনটি সূচকের মধ্যে দুটি কমেছে এবং একটি বেড়েছে, পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেনও কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ওঠানামা শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক ঘটনা এবং বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
ডিএসইতে সূচকের সার্বিক চিত্র
বুধবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স (ডিএসইর সার্বিক বাজার পরিস্থিতি প্রতিফলিত করার প্রধান সূচক) ১১ দশমিক ০০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫,৭৭০.২৭ পয়েন্টে। শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ১ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১,১৮৬.৬৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে ব্লু-চিপ কোম্পানিভিত্তিক সূচক ডিএসই-৩০ ১২ দশমিক ৬০ পয়েন্ট হারিয়ে নেমে এসেছে ২,১৬৯.২৪ পয়েন্টে।
| সূচক | আগের কার্যদিবস | বর্তমান অবস্থান | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| ডিএসইএক্স | ৫,৭৮১.২৭ | ৫,৭৭০.২৭ | -১১.০০ পয়েন্ট |
| ডিএসইএস | ১,১৮৪.৮৮ | ১,১৮৬.৬৩ | +১.৭৫ পয়েন্ট |
| ডিএসই-৩০ | ২,১৮১.৮৪ | ২,১৬৯.২৪ | -১২.৬০ পয়েন্ট |
লেনদেনের পরিমাণ ও কোম্পানির দরপতন-উত্থান
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে ১৪৫টির দর বেড়েছে, ১৯২টির দর কমেছে এবং ৫৬টি অপরিবর্তিত ছিল। টাকার অঙ্কে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ১,১৫৮ কোটি ১১ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ২৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল প্রায় ১,৩৮৮ কোটি ৩ লাখ টাকা।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৬০ দশমিক ৬০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫,৪৭২.১৮ পয়েন্টে, যেখানে আগের দিন সূচকটি ২৪ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট বেড়েছিল।
| বিষয় | ডিএসই | সিএসই |
|---|---|---|
| মোট লেনদেনকৃত প্রতিষ্ঠান | ৩৯৩ | ২৪৬ |
| দরবৃদ্ধি পেয়েছে | ১৪৫ | ১০৪ |
| দরপতন হয়েছে | ১৯২ | ১০৩ |
| অপরিবর্তিত | ৫৬ | ৩৯ |
| লেনদেনের পরিমাণ | ১,১৫৮.১১ কোটি টাকা | ২৬.৮৯ কোটি টাকা |
বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শেয়ারবাজারে উত্থান-পতন ও মিশ্র প্রবণতা স্বাভাবিক ঘটনা। তাই বিনিয়োগকারীদের উচিত ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ার এড়িয়ে শক্তিশালী মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা। পাশাপাশি বাজারে গুজব বা কৃত্রিম মূল্য প্রভাব ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন তারা।
সব মিলিয়ে, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসেও শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা বজায় থাকলেও বাজার বিশ্লেষকরা এটিকে অস্বাভাবিক কিছু মনে করছেন না। সূচক ও লেনদেনের ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করে সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়াই বিনিয়োগকারীদের জন্য উত্তম পন্থা।







Leave a Reply