সিঙ্গার বাংলাদেশের ৯ মাসে লোকসান ১১৯ কোটি টাকা, তৃতীয় প্রান্তিকে বেড়েছে লোকসান
২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে ১১৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার নিট লোকসান করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির নিট লোকসান ছিল ১১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নয় মাসে লোকসান বেড়েছে প্রায় ৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বা ৪.৮৮ শতাংশ।
সিঙ্গার বাংলাদেশের ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। কোম্পানিটির প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনটি ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।
নয় মাসে বিক্রয় বেড়েছে ৪.১১ শতাংশ
আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে সিঙ্গার বাংলাদেশের বিক্রয় হয়েছে ১ হাজার ৮৫৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে বিক্রয় ছিল ১ হাজার ৭৮০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে আলোচ্য সময়ে বিক্রয় বেড়েছে প্রায় ৭৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা বা ৪.১১ শতাংশ।
বিক্রয়ের পাশাপাশি কোম্পানিটির অর্জিত ক্যারিং চার্জসহ মোট টার্নওভার দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৫৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে এ পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৮৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
তবে বিক্রয় বাড়লেও ব্যয় ও অর্থায়ন ব্যয়ের চাপে লোকসান থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি কোম্পানিটি। আলোচ্য নয় মাসে বিক্রয় ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৩৮৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
এ সময়ে কোম্পানিটির মোট মুনাফা হয়েছে ৪৭০ কোটি ২৯ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে মোট মুনাফা ছিল ৪৩৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।
তৃতীয় প্রান্তিকে লোকসান বেড়েছে প্রায় ৬১ শতাংশ
২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—তৃতীয় প্রান্তিকে সিঙ্গার বাংলাদেশের বিক্রয় হয়েছে ৪৩৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের একই প্রান্তিকে বিক্রয় ছিল ৪১২ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে তৃতীয় প্রান্তিকে বিক্রয় বেড়েছে প্রায় ৬.৫৯ শতাংশ।
এ প্রান্তিকে কোম্পানিটির মোট মুনাফা হয়েছে ১১৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১০৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৯ কোটি ৬ লাখ টাকায়। আগের বছরের একই প্রান্তিকে পরিচালন ব্যয় ছিল ১০৮ কোটি ২০ লাখ টাকা।
তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে পরিচালন মুনাফা ছিল ৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
তবে অর্থায়ন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় চূড়ান্ত লোকসান আরও গভীর হয়েছে। ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে ৭৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের একই প্রান্তিকে লোকসান ছিল ৪৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে তৃতীয় প্রান্তিকে লোকসান বেড়েছে প্রায় ২৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা বা ৬০.৯৯ শতাংশ।
অর্থায়ন ব্যয় বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে
আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে সিঙ্গার বাংলাদেশের নিট অর্থায়ন ব্যয় হয়েছে ২০৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ ব্যয় ছিল ১৯১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, তৃতীয় প্রান্তিকে নিট অর্থায়ন ব্যয় হয়েছে ৭৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই প্রান্তিকে ছিল ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে কর-পূর্ব লোকসান হয়েছে ১০৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে কর-পূর্ব লোকসান ছিল ১০০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। কর-পরবর্তী লোকসান দাঁড়িয়েছে ১১৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
শেয়ারপ্রতি লোকসান ও নিট সম্পদমূল্য
কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস (EPS) ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে ঋণাত্মক ১১ টাকা ৯৮ পয়সা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ঋণাত্মক ১১ টাকা ৪২ পয়সা।
শুধু তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ঋণাত্মক ৭ টাকা ৭৪ পয়সা। ২০২৫ সালের একই প্রান্তিকে এ হার ছিল ঋণাত্মক ৪ টাকা ৮১ পয়সা।
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি (NAV) দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১০ টাকা ২৯ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১ টাকা ৬৯ পয়সা।
কোম্পানিটির হিসাব অনুযায়ী, ইপিএস ও এনএভি গণনায় ব্যবহৃত শেয়ারের সংখ্যা ৯ কোটি ৯৭ লাখ ২ হাজার ৮৩৮টি।
সম্পদ বেড়েছে, ঋণ ও দায়ের চাপও রয়েছে
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষে সিঙ্গার বাংলাদেশের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে মোট সম্পদ ছিল ৩ হাজার ৩৩৪ কোটি ১১ লাখ টাকা।
একই সময়ে কোম্পানিটির মোট চলতি সম্পদ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে মজুত পণ্যের পরিমাণ ৯৩৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, ট্রেড ও অন্যান্য প্রাপ্য ৭৬৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং নগদ ও নগদ সমতুল্য অর্থের পরিমাণ ১০৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির মোট চলতি দায় ছিল ২ হাজার ৮৬৪ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে জামানতযুক্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১ হাজার ৬১৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং ট্রেড ও অন্যান্য প্রদেয় ১ হাজার ৫৪৪ কোটি ৮ লাখ টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির মোট ইকুইটি ঋণাত্মক ১০২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে মোট ইকুইটি ছিল ১৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ফলে আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ইকুইটি অবস্থার অবনতি হয়েছে।
পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহ ইতিবাচক
লোকসান সত্ত্বেও ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির পরিচালন কার্যক্রম থেকে নিট নগদ প্রবাহ ইতিবাচক ছিল। এ সময়ে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নিট নগদ প্রবাহ হয়েছে ১৫০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১৪৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
প্রতি শেয়ারে পরিচালন নগদ প্রবাহ বা এনওসিএফপিএস (NOCFPS) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ১৪ পয়সায়। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ১৪ টাকা ৪৮ পয়সা।
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির নগদ ও নগদ সমতুল্য অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালের শেষ দিনে ছিল ৬০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।











Leave a Reply