সিঙ্গার বাংলাদেশের তৃতীয় প্রান্তিকে আয় বেড়েছে ৬.৫৪%, কর-পূর্ব লোকসান ৭০৯.৪০ মিলিয়ন টাকা
সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬.৫৪ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা ৪৪০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন বা ৪১০ কোটি টাকা। তবে ভোক্তা ইলেকট্রনিকস বাজারে স্থবিরতার কারণে প্রত্যাশিত বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানিটি তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল ও মূলধন সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা জানায়। সিঙ্গার বাংলাদেশ তুরস্কের কোচ হোল্ডিংয়ের প্রতিষ্ঠান বেকোর সহযোগী কোম্পানি।
কর-পূর্ব লোকসান বেড়ে ৭০৯.৪০ মিলিয়ন টাকা
২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে সিঙ্গার বাংলাদেশের কর-পূর্ব লোকসান হয়েছে ৭০৯.৪০ মিলিয়ন বা ৭০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির কর-পূর্ব লোকসান ছিল ৪২৮.৯০ মিলিয়ন বা ৪২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কর-পূর্ব লোকসান বেড়েছে ২৮০.৫০ মিলিয়ন বা ২৮ কোটি ৫ লাখ টাকা।
কোম্পানির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তৃতীয় প্রান্তিকে মোট মুনাফার হার সামান্য উন্নত হয়েছে। তবে ক্রেতাদের মূল্যসংবেদনশীলতার কারণে বিক্রয় ব্যয় বৃদ্ধির পুরোটা পণ্যের দামে সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি। আগের প্রান্তিকের তুলনায় পরিচালন মুনাফাও প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। মূলত অর্থায়ন ব্যয়ের চাপের কারণে কর-পূর্ব লোকসান বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গ্রিন ফ্যাক্টরি প্রকল্পে বিনিয়োগ
দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, স্থানীয় সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২২ সালে বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোনে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সিঙ্গার বাংলাদেশ। প্রকল্পটির আয়তন ১ লাখ ৩৫ হাজার বর্গমিটারের বেশি। এই কারখানার মাধ্যমে কোম্পানিটির ৯০ শতাংশের বেশি পণ্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় স্থানীয় মুদ্রার উল্লেখযোগ্য অবমূল্যায়নের কারণে ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ইউরোপের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির ফলে বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত আর্থিক সুফল পেতে সাময়িক বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব সাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জনে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
২৫০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা
কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা, বিদ্যমান ঋণ পুনঃঅর্থায়ন এবং চলতি মূলধনের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন বা ২৫০ কোটি টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব দিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ। এ জন্য প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সর্বোচ্চ ২৫ কোটি প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রেফারেন্স শেয়ারগুলো ইস্যুকারী কোম্পানির বিবেচনায় প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে স্পনসর শেয়ারহোল্ডারের কাছে ইস্যু করা হবে। তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
প্রস্তাবিত শেয়ার ইস্যু থেকে সংগৃহীত অর্থ বিদ্যমান ঋণ পুনঃঅর্থায়ন, ঋণের বোঝা কমানো এবং চলতি মূলধনের প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসা সম্প্রসারণে গুরুত্ব
সিঙ্গার বাংলাদেশ জানিয়েছে, স্থানীয় উৎপাদন সম্প্রসারণ, রপ্তানি বাজারের উন্নয়ন, পণ্যে উদ্ভাবন এবং গ্রাহকসেবার মান বাড়ানোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। বহুমুখী ব্র্যান্ড কৌশল ও বাংলাদেশে ধারাবাহিক বিনিয়োগের ভিত্তিতে গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখার লক্ষ্য রয়েছে কোম্পানিটির।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ২৬ অক্টোবর ২০২৬।










Leave a Reply