দেশের শেয়ারবাজারে আর্থিক সাক্ষরতা বৃদ্ধি এবং বর্তমান ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতন বিনিয়োগের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পুঁজিবাজারে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে আরও নিরাপদ ও জ্ঞানভিত্তিক করতে প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে বিনিয়োগ শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি ঢাকা কমার্স কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ‘প্রাথমিক বিনিয়োগ শিক্ষা (আর্থিক সাক্ষরতা)’ শীর্ষক দিনব্যাপী একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করে কমিশন।
ঢাকা কমার্স কলেজে বিএসইসির বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি
বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বিএসইসি ভবনের বহুমুখী মিলনায়তনে ঢাকা কমার্স কলেজের অর্থ ও ব্যাংকিং বিভাগের প্রায় ১০০ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে নিয়ে এই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ-এর প্রাথমিক ধারণা, বিনিয়োগের সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং তা ব্যবস্থাপনার কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত ও ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়।
বিনিয়োগ শিক্ষা কর্মসূচির মূল আলোচ্য বিষয়সমূহ:
| আলোচ্য বিষয় | উপস্থাপক (বিএসইসি কর্মকর্তা) | মূল উদ্দেশ্য |
|---|---|---|
| আর্থিক সাক্ষরতার মৌলিক ধারণা | শেখ মাহবুব উর রহমান (পরিচালক) | ব্যক্তিগত অর্থায়ন ও পুঁজিবাজারের প্রাথমিক পাঠ |
| বিনিয়োগের ঝুঁকি ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা | শেখ মো. নূরুল কবির (অতিরিক্ত পরিচালক) | ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ ও আইনি সুরক্ষার উপায় জানা |
| আর্থিক পরিকল্পনা | মো. নাজিফ আল তারিক (কমিশনার) | দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও সঠিক পোর্টফোলিও গঠন |
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা
পুঁজিবাজারে টেকসই উন্নয়নের জন্য আর্থিক সাক্ষরতা অত্যন্ত জরুরি। এই কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের বিনিয়োগকারীদের অধিকার, বিএসইসি কর্তৃক প্রদত্ত সুরক্ষা আইন এবং ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক ও ব্যাষ্টিক অর্থনৈতিক বিষয়ে সচেতন করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে একটি উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি পুঁজিবাজারের বিভিন্ন টেকনিক্যাল টার্ম যেমন— ইপিএস (EPS – শেয়ার প্রতি আয়), নেভ (NAV – শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য) ও লভ্যাংশ নীতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারীদের হাতে প্রাতিষ্ঠানিক সনদ তুলে দেওয়া হয়। বিএসইসি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণের মাঝে বিএসইসি-এর এই বিশেষ সচেতনতামূলক বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও দেশব্যাপী উত্তরোত্তর পরিচালনা করা হবে, যা দেশের পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: [সম্পর্কিত নিউজের শিরোনাম লিখুন]







Leave a Reply