দেশের ব্যাংক খাতে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমার প্রভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ঋণ প্রবৃদ্ধি চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ঋণাত্মক ধারায় নেমে এসেছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধীরগতি দেখা দেওয়ায় সামগ্রিক ব্যাংক খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ১.৩৯%-এ।
সোনালী ব্যাংকের ঋণস্থিতি কমার কারণ
রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংক—সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল—এর মধ্যে ঋণস্থিতি কমার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সোনালী ব্যাংক। মার্চ শেষে ব্যাংকটির ঋণস্থিতি ছিল ৯০,৯৭৮ কোটি টাকা, যা জুন শেষে কমে দাঁড়ায় ৮৫,৯৮২ কোটি টাকায়—অর্থাৎ তিন মাসে কমেছে ৪,৯৯৬ কোটি টাকা বা ৫.৪৯%। ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, নতুন ঋণ বিতরণের চেয়ে পুরোনো ঋণ আদায় এবং আমানতের একটি বড় অংশ সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে গত ১৩ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ঋণ বিতরণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের ঋণস্থিতির তুলনামূলক চিত্র
| ব্যাংক | পরিবর্তন (এপ্রিল-জুন) |
|---|---|
| সোনালী ব্যাংক | -৪,৯৯৬ কোটি টাকা (-৫.৪৯%) |
| জনতা ব্যাংক | -৫২৯ কোটি টাকা |
| অগ্রণী ব্যাংক | +৮৭ কোটি টাকা |
| রূপালী ব্যাংক | +১,০৫০ কোটি টাকা |
| বেসিক ব্যাংক | +১২ কোটি টাকা |
| বিডিবিএল | +২৭ কোটি টাকা |
জনতা ব্যাংকের ক্ষেত্রে ঋণস্থিতি কমার পেছনে বড় কারণ খেলাপি ঋণ। ব্যাংকটির মোট ঋণের প্রায় ৭৫% খেলাপি হওয়ায় নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে। সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের মোট ঋণস্থিতি জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের ৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা থেকে কমে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯৮৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকায়—অর্থাৎ কমেছে ১.০২%।
এদিকে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধিও ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ২২ শতাংশে নেমেছে। বিপরীতে বেসরকারি ব্যাংকে প্রবৃদ্ধি ছিল ২.০৫% এবং বিদেশি ব্যাংকে ২.৫২%—যা দেখায় সংকট মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত খাতে কেন্দ্রীভূত।
সার্বিকভাবে, খেলাপি ঋণের চাপ, ঋণ আদায়ে বাড়তি মনোযোগ এবং জ্বালানি সংকটজনিত ব্যবসায়িক ধীরগতির কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ঋণ প্রবৃদ্ধি এই প্রান্তিকে ঋণাত্মক ধারায় নেমেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সামনের প্রান্তিকগুলোতে ঋণ বিতরণ ফের বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
আরও পড়ুন: [সম্পর্কিত নিউজের শিরোনাম লিখুন]








Leave a Reply