প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৬ মার্চ ২০২৬ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়ায় কোদাল হাতে মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি-র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। একযোগে দেশের ৫৪টি জেলায় এই কর্মসূচির সূচনা হয়, যা বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল। এই বৃহৎ সরকারি উদ্যোগ দেশের কৃষি, সেচ অবকাঠামো এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন — এবং স্বাভাবিকভাবেই পুঁজিবাজারে সংশ্লিষ্ট খাতের কোম্পানিগুলোর দিকে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি পড়ছে।
২০,০০০ কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা: প্রকল্পের বিস্তারিত
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২০,০০০ কিলোমিটার নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলায় এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। দিনাজপুরের সাহাপাড়ায় উদ্বোধনী খালটির দৈর্ঘ্য ১২ কিলোমিটার। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এই কর্মসূচির সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, যেখানে প্রায় ৩,৬৩৬ মাইল খাল খনন করা হয়েছিল। সে সময়ের সেই কর্মসূচি গ্রামীণ কৃষি ও সেচব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল। বর্তমান উদ্যোগকে সেই ধারাবাহিকতার নতুন রূপ হিসেবে দেখছে সরকার।
| তুলনার বিষয় | জিয়াউর রহমানের কর্মসূচি (১৯৭৭) | বর্তমান কর্মসূচি (২০২৬) |
|---|---|---|
| লক্ষ্যমাত্রা | ৩,৬৩৬ মাইল খাল খনন | ২০,০০০ কিলোমিটার খনন ও পুনঃখনন |
| সময়কাল | ১৯৭৭-১৯৮১ (শাসনামল জুড়ে) | ৫ বছর (২০২৬-২০৩১) |
| জেলার সংখ্যা | তথ্য অনির্দিষ্ট | প্রথম পর্যায়ে ৫৪ জেলা |
| পদ্ধতি | স্বেচ্ছাশ্রম ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য | সরকারি সমন্বয় ও বাস্তবায়ন |
কৃষি খাতে বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারে সম্ভাব্য প্রভাব
এই বিশাল অবকাঠামো প্রকল্পের ফলে সরাসরি উপকৃত হবে কৃষি সেচ, মৎস্য চাষ, হাঁস পালন এবং খালনির্ভর গ্রামীণ অর্থনীতি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালীন জলাবদ্ধতা হ্রাস পাবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচসুবিধা বাড়বে — যা সরাসরি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। পুঁজিবাজারে কৃষি খাতে বিনিয়োগ-এ আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের জন্য এই কর্মসূচি একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সম্ভাব্য প্রভাবিত খাতসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- সার ও কৃষি উপকরণ কোম্পানি: সেচ সম্প্রসারণের ফলে সার ও বীজের চাহিদা বাড়তে পারে।
- নির্মাণ ও ড্রেজিং কোম্পানি: খাল খনন ও পুনঃখনন কাজে ড্রেজিং এবং নির্মাণ সরঞ্জামের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হবে।
- মৎস্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কোম্পানি: খালের পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধার হলে মাছ চাষ বৃদ্ধি পাবে।
- সেচ প্রযুক্তি ও পাম্প উৎপাদনকারী: সেচব্যবস্থার আধুনিকায়নে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির চাহিদা বাড়বে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ও সতর্কতা
পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আইনুন নিশাত মনে করেন, খাল খনন একটি কারিগরি বিষয় এবং এর জন্য সুনির্দিষ্ট নকশা ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ জরুরি। তার মতে, কর্মসূচির উদ্দেশ্য পরিষ্কার থাকলে তবেই এই বিশাল বিনিয়োগ কার্যকর ফল দেবে। প্রধানমন্ত্রী খনন করা খালের দুই পাশে ফল গাছ রোপণ এবং উত্তোলিত মাটি পুনরায় খালে না পড়ার বিষয়ে নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, এই খাল পুনঃখনন কর্মসূচি দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম। তবে বিনিয়োগকারীদের উচিত সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন ও চুক্তির তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। যেকোনো সরকারি মেগাপ্রকল্পের সরাসরি সুফলভোগী কোম্পানিগুলোর শেয়ারে স্বল্পমেয়াদে চাপ ও দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি উভয়ই দেখা যেতে পারে।







Leave a Reply