Amader Pujibazar আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের অবরোধে আটকে থাকা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) উপস্থাপিত প্রস্তাব ভেটো দিয়ে আটকে দিয়েছে রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স।
বাহরাইনের নেতৃত্বে আরব উদ্যোগ ভেস্তে গেলো
বাহরাইনের নেতৃত্বে আরব দেশগুলোর আনা এই প্রস্তাবে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তিন প্রভাবশালী দেশের বিরোধিতায় উদ্যোগটি ব্যর্থ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা ঘনীভূত হয়েছে।
প্রণালি বন্ধের পেছনের প্রেক্ষাপট
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইরান কৌশলগতভাবে এই প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। অবরোধের ফলে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলো গ্যাস উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার।
ফ্রান্সের বিরোধিতা: সামরিক পদক্ষেপ ‘অবাস্তব’
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ এই সামরিক পদক্ষেপকে ‘অবাস্তব’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগ করলে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাবে, যা গোটা অঞ্চলকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
ইরানের পাল্টা হামলা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা
প্রণালি বন্ধের পর থেকে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি এসব হামলাকে ‘পরিকল্পিত ও আগ্রাসী’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
ওমান ও কাতারের আগের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার পর বর্তমানে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশর পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তবে সৌদি আরব-ভিত্তিক গালফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ সাগের মনে করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ হ্রাস না পাওয়া পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ ও ভারতে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা
নিরাপত্তা পরিষদে এই অচলাবস্থার কারণে অদূর ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কোনো কূটনৈতিক সমাধান দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ছে, অন্যদিকে ভারত ও বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে জ্বালানি ও সারের দাম ব্যাপকভাবে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।







Leave a Reply