ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী মার্জ হতে যাওয়া পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের সাধারণ বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার কোনো সুযোগ আপাতত নেই। তবে এই পরিস্থিতিতে সরকার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি)।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান শেয়ার সম্পদের মূল্য ইতোমধ্যে নেতিবাচক। তাই নতুনভাবে গঠিত ব্যাংকে এসব শেয়ারহোল্ডারদের কোনো শেয়ার বরাদ্দ করা হবে না। গভর্নরের এই মন্তব্যের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অস্থিরতা দেখা দেয়।
পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার রাতেই এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্ব ব্যাংক এবং যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের কারিগরি সহায়তা ও সুপারিশের ভিত্তিতে। এই অধ্যাদেশে রেজোলিউশন প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংকগুলোর আমানতকারী, শেয়ারহোল্ডার এবং অন্যান্য পাওনাদারদের অধিকার স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রেজোলিউশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিযুক্ত কোনো স্বাধীন ও পেশাদার মূল্য নির্ধারক যদি মূল্যায়নের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের যোগ্য বলে প্রমাণ করে, তাহলে সেই ক্ষতিপূরণ প্রদান করা যেতে পারে।
এদিকে বিশেষ পরিদর্শন ও তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক কনসাল্টিং ফার্মের সম্পদমান পর্যালোচনায় ব্যাংকগুলোতে বিপুল লোকসানের চিত্র উঠে এসেছে, যার ফলে তাদের নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) বর্তমানে নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, অধ্যাদেশের ধারা ৪২ অনুযায়ী গতকাল (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকিং সেক্টর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির (বিসিএমসি) বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, “রেজোলিউশন প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ব্যাংকের লোকসানের ভার বহন করবেন শেয়ারহোল্ডাররা।”
ফলে ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর বিধান ও বিসিএমসি’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে এই পাঁচটি ব্যাংকের মার্জার প্রক্রিয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার কোনো সুযোগ নেই। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, সরকার চাইলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা বিবেচনা করতে পারে।



Leave a Reply