শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড-এ ফারইস্ট ফাইন্যান্স পরিচালক পদত্যাগের ঘটনায় নতুন করে গভীর প্রশাসনিক সংকট তৈরি হয়েছে। একের পর এক পরিচালক সরে দাঁড়ানোয় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদে এখন মাত্র একজন পরিচালক অবশিষ্ট রয়েছেন, যা বোর্ডের স্বাভাবিক কার্যক্রম কার্যত অচল করে দিয়েছে।
কীভাবে ঘটল এই পরিচালক পদত্যাগের ঘটনা?
২০২১ সালের ২৯ মার্চ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ফারইস্ট ফাইন্যান্সের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সাবেক আমলা, পেশাজীবী ও স্বতন্ত্র পরিচালকদের নিয়ে নতুন বোর্ড গঠন করেছিল। কিন্তু চার বছর না পেরোতেই সেই পুনর্গঠিত বোর্ডও ভেঙে পড়েছে।
পদত্যাগের ধারাবাহিকতা শুরু হয় গত বছরের ১০ ডিসেম্বর, যখন বিএসইসি মনোনীত চেয়ারম্যান ও সাবেক সিনিয়র সচিব মো. আশরাফুল মকবুল পদত্যাগ করেন। এর পরদিন ১১ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন স্বতন্ত্র পরিচালক শেখ নাজমুল হক সৈকত। সর্বশেষ চলতি বছরের ৪ মে স্বতন্ত্র পরিচালক এহসানুল আজিজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন পদত্যাগ করেন।
কোরাম সংকট কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
কোরাম বলতে বোঝায় বোর্ড সভা বৈধভাবে আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সদস্যসংখ্যা। ফারইস্ট ফাইন্যান্সের সংঘবিধি অনুযায়ী, বোর্ড সভার জন্য ন্যূনতম পাঁচজন পরিচালকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। বর্তমানে মাত্র একজন পরিচালক থাকায় বোর্ড সভা আয়োজনই সম্ভব হচ্ছে না।
এই ফারইস্ট ফাইন্যান্স কোরাম সংকটের ফলে ঋণ পুনর্গঠন, আমানত ব্যবস্থাপনা, আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন, নিরীক্ষা কার্যক্রম এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা বাস্তবায়ন — সবকিছুতেই জটিলতা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকে জরুরি চিঠি ও শেয়ার তথ্য
পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছে ফারইস্ট ফাইন্যান্স। চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থাকে “অত্যন্ত সংকটাপন্ন” বলে উল্লেখ করে দ্রুত হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি বিএসইসিকেও অবহিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটি ২০১৭ সাল থেকে ধারাবাহিক লোকসানে থাকায় ২০১৮ সালে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমিত হয়। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৬৫ কোটি ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং মোট শেয়ার সংখ্যা ৬ কোটি ৫০ লাখ ২২ হাজার ৭৯৩টি।
| বিনিয়োগকারীর ধরন | শেয়ার হোল্ডিং (৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত) |
|---|---|
| উদ্যোক্তা পরিচালক | ৩৯.৭৫% |
| প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী | ১২.৪১% |
| সাধারণ বিনিয়োগকারী | ৪৭.৮৫% |
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের দুর্বল আর্থিক অবস্থা, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং ব্যবস্থাপনা সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে ফারইস্ট ফাইন্যান্স পরিচালক পদত্যাগের ঘটনা কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।







Leave a Reply