চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লার নিজ বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইকারী চক্রের হাতে নৃশংসভাবে প্রাণ হারান কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫)। বুলেট বৈরাগী হত্যার ঘটনায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) অভিযান চালিয়ে মোট পাঁচজন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে এবং নিহতের মোবাইল ফোনসেট, ব্যাগসহ বেশ কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার বিবরণ: যেভাবে হত্যার শিকার হলেন বুলেট বৈরাগী
নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বাসিন্দা এবং ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার পদে কাস্টমস বিভাগে যোগ দিয়েছিলেন। কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত অবস্থায় তিনি ১ এপ্রিল চট্টগ্রামে ৪৪তম বনিয়াদি প্রশিক্ষণে যোগ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রামের দামপাড়া থেকে সেন্টমার্টিন ইয়াসিন এক্সপ্রেস বাসে ওঠেন তিনি।
তদন্তকারী সূত্র ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে জানা গেছে, রাত পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোতোয়ালি এলাকায় বাসের যাত্রাবিরতির সময় নেমে পড়েন বুলেট বৈরাগী। এরপর কুমিল্লার পানপট্টির বাসায় যেতে জাগর ঝুলি এলাকা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। কিন্তু চালকসহ ওই সিএনজিতে আগে থেকেই ছদ্মবেশী ছিনতাইকারী চক্রের পাঁচ সদস্য বসেছিল। তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে তার মোবাইল ফোন, ব্যাগ, ক্যামেরা ও জুতা ছিনিয়ে নেয় এবং চলন্ত গাড়ি থেকে রাস্তায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। প্রচণ্ড আঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।
শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার আইরিশ হিল হোটেলের পাশের ফুটপাত থেকে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের মুখমণ্ডল রক্তাক্ত ছিল এবং মাথার পেছনে গুরুতর থেতলানো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী জানান, শেষবার ফোনে কথা বলার সময় তার ছেলের কণ্ঠস্বর অপরিচিত মনে হয়েছিল। বুলেট তার মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন।
পাঁচ গ্রেফতার: কারা এই ছিনতাইকারী চক্র
র্যাব-১১ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে শনিবার রাত থেকে রোববার সন্ধ্যার মধ্যে পাঁচজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। সূত্র মতে, গ্রেফতারকৃতরা সবাই পেশাদার ছিনতাইকারী।
| নাম | বয়স | এলাকা |
|---|---|---|
| ইমরান হোসেন হৃদয় | ৩৭ | কোতোয়ালির আমড়াতলী, কুমিল্লা |
| মোহাম্মদ সোহাগ | ৩০ | আমড়াতলী, কুমিল্লা |
| ইসমাইল হোসেন জনি | ২৫ | আমড়াতলী, কুমিল্লা |
| মোহাম্মদ সুজন | ৩২ | আমড়াতলী, কুমিল্লা |
| রাহাতুল রহমান জুয়েল | ২৭ | আমড়াতলী, কুমিল্লা |
মামলা ও তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা
ঘটনার পরপরই কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী। র্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন নিশ্চিত করেন, আটককৃতরা সবাই পেশাদার ছিনতাইকারী এবং তথ্যপ্রযুক্তিগত তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। নিহতের কাছ থেকে লুট করা মোবাইল ফোনসহ একাধিক মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্নের পর বুলেট বৈরাগীর মরদেহ গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই নির্মম বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ড দেশে সরকারি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।







Leave a Reply