নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব এবং বোর্ড সভা নিয়ে চলা জটিলতা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত ৮ মার্চ কমিশনের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ১০ মার্চ একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যেখানে চার সদস্যের একটি দলকে পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির এই তদন্ত দলে রয়েছেন অতিরিক্ত পরিচালক লুৎফুল কবির ও দেলোয়ার হোসেন এবং সহকারী পরিচালক মতিউর রহমান ও নিজাম উদ্দিন। কমিশন এই দলটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মূলত গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কোম্পানির ৬৫তম বোর্ড সভাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধই এই তদন্তের মূল কারণ।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ওই দিন বোর্ড সভা শেষে বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক সাইকা মাজেদ নির্ধারিত কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করলেও পর্ষদের একটি অংশ পরবর্তীতে আলাদা বসে জাভেদ কায়সার অ্যালিকে নতুন চেয়ারম্যান এবং সায়েদ আহমেদকে এমডি হিসেবে ঘোষণা করে। এমনকি কোম্পানি সেক্রেটারিও পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাইকা মাজেদ বিএসইসিতে লিখিত অভিযোগ করার পাশাপাশি গুলশান থানায় একটি মামলাও দায়ের করেন।

পরিস্থিতি বিবেচনায় বিএসইসি কোম্পানিটির সব বোর্ড সদস্য ও সেক্রেটারিকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করার পর এই বিশেষ কমিটি গঠন করে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করছে, একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির পর্ষদ গঠন এবং করপোরেট গভর্ন্যান্সের সঠিক চর্চা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি জড়িত, তাই এই বিতর্কের অবসান হওয়া জরুরি।

তদন্ত কমিটি মূলত খতিয়ে দেখবে কোম্পানির ৬৪তম ও ৬৫তম বোর্ড সভা আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়েছিল কি না এবং সভার নোটিশ সব যোগ্য পরিচালক যথাযথভাবে পেয়েছিলেন কি না। এছাড়া সভার কার্যবিবরণী তৈরিতে কোনো কারচুপি হয়েছে কি না বা কোনো বহিরাগত ব্যক্তি সভার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে কি না, তাও যাচাই করা হবে। পরিচালক নিয়োগ কিংবা চেয়ারম্যান অপসারণের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন মেনে চলা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।

S

Sadat Hossain Sadman

View all posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *